১০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ: রাজপথে নতুন উত্তাপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৯ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

​বিশেষ প্রতিনিধি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধসহ ৬ দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বহুল আলোচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে এক সুবিশাল উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ অভিযাত্রার সূচনা ঘটে।
​অধিকার আদায়ে লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের:
উদ্বোধনী সমাবেশ ও যাত্রাপথের নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডক্টর শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার জনগণের সঙ্গে ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা লঙ্ঘন করে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই মহাসড়কে সাধারণ মানুষ রক্ত ঢেলেছিল, কিন্তু সেই রক্ত ও বিপ্লবের মূল দাবি আজও পূরণ হয়নি। আমরা গণভোটের জনরায় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজপথে নেমেছি।”
​সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “জনগণের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট ঘরে ফিরবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে; লংমার্চে কোনো বাধা এলে তা রাজপথেই দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে।”
​মহাসড়কে একের পর এক পথসভা ও জোট নেতাদের বক্তব্য:
শাপলা চত্বর থেকে প্রায় দেড় হাজার যানবাহনের সুবিশাল কাফেলা নিয়ে লংমার্চের বহরটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে অগ্রসর হয়। যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এবং ফেনীর মহীপালে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভাগুলোতে জোটের অন্য শীর্ষ নেতারা সরকারবিরোধী কড়া বক্তব্য দেন:
​সরকারকে আল্টিমেটাম চিফ হুইপের: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে, অন্যথায় এই সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। জনদাবি আদায়ে বাধা দিলে আমাদের এই ৬ দফা আন্দোলন খুব শিগগির এক দফার আন্দোলনে রূপ নেবে।”
​ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক অলি আহমদের: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, “দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। বেইমান ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
​আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “লংমার্চের মধ্য দিয়ে আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নতুন পর্ব শুরু হলো। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া হবে।”
​নিরাপত্তা ও মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি:
লংমার্চ চলাকালে পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি ময়দানে রাতে বিশাল মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম অংশের এই লংমার্চ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নাগেশ্বরীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৬০ বোতল ইস্কাফ উদ্ধার

আজ শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ: রাজপথে নতুন উত্তাপ

Update Time : ০১:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

​বিশেষ প্রতিনিধি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধসহ ৬ দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বহুল আলোচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে এক সুবিশাল উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ অভিযাত্রার সূচনা ঘটে।
​অধিকার আদায়ে লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের:
উদ্বোধনী সমাবেশ ও যাত্রাপথের নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডক্টর শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার জনগণের সঙ্গে ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা লঙ্ঘন করে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই মহাসড়কে সাধারণ মানুষ রক্ত ঢেলেছিল, কিন্তু সেই রক্ত ও বিপ্লবের মূল দাবি আজও পূরণ হয়নি। আমরা গণভোটের জনরায় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজপথে নেমেছি।”
​সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “জনগণের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোট ঘরে ফিরবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে; লংমার্চে কোনো বাধা এলে তা রাজপথেই দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে।”
​মহাসড়কে একের পর এক পথসভা ও জোট নেতাদের বক্তব্য:
শাপলা চত্বর থেকে প্রায় দেড় হাজার যানবাহনের সুবিশাল কাফেলা নিয়ে লংমার্চের বহরটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে অগ্রসর হয়। যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এবং ফেনীর মহীপালে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভাগুলোতে জোটের অন্য শীর্ষ নেতারা সরকারবিরোধী কড়া বক্তব্য দেন:
​সরকারকে আল্টিমেটাম চিফ হুইপের: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে, অন্যথায় এই সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। জনদাবি আদায়ে বাধা দিলে আমাদের এই ৬ দফা আন্দোলন খুব শিগগির এক দফার আন্দোলনে রূপ নেবে।”
​ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক অলি আহমদের: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, “দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। বেইমান ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
​আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “লংমার্চের মধ্য দিয়ে আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নতুন পর্ব শুরু হলো। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া হবে।”
​নিরাপত্তা ও মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি:
লংমার্চ চলাকালে পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি ময়দানে রাতে বিশাল মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম অংশের এই লংমার্চ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।