কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষককে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত এবং গুম ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শারিসুরি গ্রামের ০৮ নং ওয়ার্ড এলাকায় আবাদী জমি ও বসতভিটার পাশ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে ট্র্যাক্টর দিয়ে অবৈধভাবে বালু খনন করে আসছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে ওই এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সচিত্র তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেন স্থানীয় মো. হানিফ আলীর ছেলে মোঃ ফারুক মিয়া।
ফেসবুক পোস্টের জেরে গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে অভিযুক্ত মো. মাসুদ রানা, মো. রয়েল মিয়া এবং মো. সিদ্দিক হোসেন সহ তাদের সহযোগীরা ফারুক মিয়ার বাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে তাকে না পেয়ে তারা ফারুক মিয়ার কর্মস্থল কোচিং সেন্টারে গিয়েও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে নুনখাওয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে তাকে একা পেয়ে অভিযুক্ত সিদ্দিক হোসেন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং সবার সামনে গায়ে হাত তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় অভিযুক্ত সিদ্দিক ও তার ট্রাক্টর চালক মাসুদ ও রয়েল মিলে শিক্ষক ফারুক মিয়াকে প্রকাশ্যে গুম এবং খুনের হুমকি প্রদান করে। তাদের অবৈধ ব্যবসায় বাধা দিলে পরিণাম ভয়াবহ হবে বলে তারা শাসিয়ে যায়।
ইতিমধ্যেই এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নুনখাওয়া ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. গোলাম মোস্তফাসহ এলাকার ১১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. মাসুদ রানা ও মো. কামরুল হকসহ একটি চক্র দীর্ঘ ১ বছর যাবত জোরপূর্বক আবাদী জমি থেকে বালু তুলে ব্যবসা করছে। স্থানীয়রা মৌখিকভাবে নিষেধ করলেও তারা তা মানছে না, উল্টো প্রতিবাদকারীদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।
প্রভাবশালী এই চক্রের দাপটে নুনখাওয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে চরাঞ্চলের বসতভিটা নদী ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক এবং একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এই চক্রটি এতটাই বেপরোয়া যে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া তাদের থামানো সম্ভব নয়।
Reporter Name 















